বাসা শিফটিং সার্ভিস – নিরাপদ, ঝামেলামুক্ত ও পেশাদার বাসা বদলের সমাধান
বাসা বদল করা অনেকের কাছেই একটি ঝামেলাপূর্ণ কাজ। কারণ একটি বাসা থেকে অন্য বাসায় শুধু আসবাবপত্র নিয়ে গেলেই কাজ শেষ হয় না। প্রয়োজন হয় পরিকল্পনা, প্যাকিং, ভারী জিনিস নামানো, গাড়ির ব্যবস্থা করা, নতুন বাসায় মালামাল উঠানো, আসবাবপত্র পুনরায় স্থাপন করা এবং প্রতিটি জিনিস নিরাপদে পৌঁছেছে কি না তা নিশ্চিত করা।
এই পুরো কাজটিকে সহজ, পরিকল্পিত ও নিরাপদ করতে প্রয়োজন একটি নির্ভরযোগ্য বাসা শিফটিং সার্ভিস।
প্যাক এন্ড শিফট গ্রাহকের প্রয়োজন অনুযায়ী বাসা বদলের বিভিন্ন ধাপ একসঙ্গে পরিচালনা করে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ থেকে শুরু করে প্যাকিং, আসবাবপত্র মোড়ানো, ভঙ্গুর জিনিস নিরাপদ করা, মালামাল বহন, গাড়ির ব্যবস্থা, শ্রমিক, কারিগর এবং নতুন বাসায় প্রয়োজনীয় জিনিস পুনরায় স্থাপন পর্যন্ত একটি সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করা হয়।
বাসা শিফটিং সার্ভিস কী?
বাসা শিফটিং সার্ভিস হলো এমন একটি পেশাদার সেবা, যেখানে আপনার বর্তমান বাসা থেকে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, রান্নাঘরের জিনিস, কাপড়, বই, কাচের জিনিস এবং অন্যান্য মালামাল নিরাপদে নতুন বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়।
একটি ভালো বাসা বদল সেবার মধ্যে সাধারণত থাকে—
- বাসার মালামাল পর্যবেক্ষণ
- কাজের পরিকল্পনা
- প্রয়োজনীয় প্যাকিং উপকরণের ব্যবস্থা
- আসবাবপত্র মোড়ানো
- কাচ ও ভঙ্গুর জিনিস আলাদাভাবে প্যাক করা
- বড় ও ভারী জিনিস নিরাপদ করা
- প্রয়োজন অনুযায়ী আসবাবপত্র খোলা
- দক্ষ শ্রমিকের মাধ্যমে মালামাল নামানো
- উপযুক্ত গাড়ির ব্যবস্থা
- নতুন বাসায় মালামাল উঠানো
- প্রয়োজন অনুযায়ী আসবাবপত্র পুনরায় সংযোজন
- কাজের সার্বিক তদারকি
ফলে গ্রাহককে আলাদাভাবে শ্রমিক, গাড়ি, কারিগর বা প্যাকিংয়ের লোক খুঁজতে হয় না।
বাসা পর্যবেক্ষণ ও পূর্ব পরিকল্পনা
নিরাপদ বাসা বদলের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো সঠিক পরিকল্পনা।
কাজ শুরুর আগে বাসার মালামাল দেখে বুঝতে হয় কতগুলো বড় আসবাবপত্র রয়েছে, কী ধরনের প্যাকিং প্রয়োজন, কোন জিনিস খুলতে হবে, কতজন শ্রমিক লাগবে এবং কোন ধরনের গাড়ি প্রয়োজন হবে।
এ ছাড়া বর্তমান বাসা এবং নতুন বাসার তলা, লিফট আছে কি না, সিঁড়ির প্রস্থ, গাড়ি প্রবেশের ব্যবস্থা এবং দুই বাসার দূরত্বও গুরুত্বপূর্ণ।
আগে থেকেই এসব তথ্য জানা থাকলে বাসা বদলের দিন অপ্রত্যাশিত সমস্যা অনেক কমে যায়।
বিশেষ করে বড় বাসা বা বেশি মালামাল থাকলে আগে থেকে বাসা পর্যবেক্ষণ করে কাজের পরিকল্পনা করা ভালো।
উন্নতমানের প্যাকিং উপকরণের ব্যবহার
বাসা বদলের সময় প্যাকিংয়ের মান সরাসরি মালামালের নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত।
সব জিনিস একইভাবে প্যাক করা যায় না।
কাপড়, বই বা সাধারণ গৃহস্থালি সামগ্রীর জন্য যে ধরনের প্যাকিং প্রয়োজন, টেলিভিশন, আয়না, কাচের টেবিল, ক্রোকারিজ বা দামি সাজসজ্জার জিনিসের জন্য তার চেয়ে বেশি সুরক্ষা প্রয়োজন।
প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা যেতে পারে—
- শক্ত কার্টন
- বাবল মোড়ক
- স্ট্রেচ মোড়ক
- করোগেটেড বোর্ড
- ফোম
- শক্ত আঠালো টেপ
- সুরক্ষামূলক কাপড়
- কোণ সুরক্ষাকারী উপকরণ
সঠিক উপকরণ ব্যবহার করলে ধুলা, আঁচড়, ধাক্কা এবং ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
আসবাবপত্র মোড়ানো
খাট, সোফা, আলমারি, ডাইনিং টেবিল, চেয়ার, ড্রেসিং টেবিল এবং অন্যান্য আসবাবপত্র বাসা বদলের সময় সবচেয়ে বেশি আঁচড় ও আঘাতের ঝুঁকিতে থাকে।
সিঁড়ি দিয়ে নামানোর সময় দেয়ালে ঘষা লাগতে পারে। গাড়ির ভেতরে অন্য মালামালের সঙ্গে ধাক্কা লেগেও ক্ষতি হতে পারে।
তাই বড় আসবাবপত্র যথাযথভাবে মোড়ানো জরুরি।
প্রয়োজন অনুযায়ী আসবাবপত্রের কোণা, পালিশ করা অংশ, কাচের অংশ এবং কাঠের অংশ আলাদাভাবে সুরক্ষিত করা উচিত।
ক্রোকারিজ ও ভঙ্গুর জিনিসের প্যাকিং
বাসা বদলের সময় সবচেয়ে বেশি সতর্কতার প্রয়োজন হয় ভঙ্গুর জিনিসের ক্ষেত্রে।
এর মধ্যে রয়েছে—
- প্লেট
- কাপ
- গ্লাস
- ডিনার সেট
- কাচের বাটি
- আয়না
- শোপিস
- কাচের ফুলদানি
- কাচের টেবিল
- নাজুক রান্নাঘরের সামগ্রী
প্রতিটি ভঙ্গুর জিনিস আলাদাভাবে মোড়ানো এবং বাক্সের ভেতরের ফাঁকা জায়গা নরম উপকরণ দিয়ে পূরণ করা জরুরি।
বাক্সের বাইরে পরিষ্কারভাবে চিহ্নিত করা হলে মালামাল ওঠানো-নামানোর সময় কর্মীরা বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে পারেন।
বড় ও ভারী মালামালের প্যাকিং
ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন, বড় আলমারি, ভারী টেবিল, বড় সোফা এবং অন্যান্য ভারী সামগ্রী সাধারণ মালামালের মতো বহন করা নিরাপদ নয়।
এ ধরনের জিনিস সরানোর আগে দেখতে হয়—
- জিনিসটির ওজন কত
- দরজা দিয়ে বের করা সম্ভব কি না
- সিঁড়ি দিয়ে নামানো যাবে কি না
- লিফটে নেওয়া যাবে কি না
- কতজন শ্রমিক প্রয়োজন
- কোন ধরনের গাড়ি ব্যবহার করা হবে
সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া ভারী জিনিস বহন করলে মালামালের পাশাপাশি শ্রমিকেরও দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে।
প্যাকিং ও চিহ্নিতকরণ
শুধু প্যাকিং করলেই কাজ শেষ নয়।
কোন বাক্সে কী ধরনের জিনিস আছে তা চিহ্নিত করা হলে নতুন বাসায় জিনিস গোছানো অনেক সহজ হয়।
যেমন—
রান্নাঘরের জিনিস আলাদা, শোবার ঘরের জিনিস আলাদা, বই আলাদা এবং ভঙ্গুর জিনিস আলাদা করে চিহ্নিত করা যেতে পারে।
এতে নতুন বাসায় পৌঁছে প্রয়োজনীয় জিনিস দ্রুত খুঁজে পাওয়া যায় এবং কর্মীরাও জানতে পারেন কোন বাক্সে বেশি সতর্কতা প্রয়োজন।
আসবাবপত্র খোলা ও পুনরায় সংযোজন
অনেক আসবাবপত্র সরাসরি এক বাসা থেকে অন্য বাসায় নেওয়া সম্ভব হয় না।
বিশেষ করে—
- খাট
- বড় আলমারি
- কাঠের তাক
- বড় টেবিল
- মডুলার আসবাবপত্র
- বড় ক্যাবিনেট
এসব জিনিস প্রয়োজন অনুযায়ী আগে খুলতে হয়।
দক্ষ কারিগর থাকলে আসবাবপত্রের অংশগুলো সঠিকভাবে খুলে আলাদা করে রাখা যায় এবং নতুন বাসায় নিয়ে আবার আগের মতো সংযোজন করা যায়।
এতে স্ক্রু, কবজা, নাট-বল্টু বা ছোট অংশ হারানোর আশঙ্কা কমে।
দক্ষ কারিগর
বাসা বদলের সময় শুধু আসবাবপত্র নয়, কিছু বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক সামগ্রীর ক্ষেত্রেও দক্ষ কারিগর প্রয়োজন হতে পারে।
যেমন—
- শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র
- টেলিভিশন
- পানি গরম করার যন্ত্র
- ওয়াশিং মেশিন
- বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম
ভুলভাবে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলে যন্ত্র নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
তাই প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ কারিগরের সহায়তা নেওয়া নিরাপদ।
পেশাদার শ্রমিক
অভিজ্ঞ শ্রমিক ও সাধারণ অদক্ষ শ্রমিকের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে।
একজন প্রশিক্ষিত কর্মী জানেন—
- ভারী জিনিস কীভাবে তুলতে হয়
- কোন বাক্স আগে গাড়িতে রাখতে হয়
- কোন জিনিসের ওপর ভারী মালামাল রাখা যাবে না
- সিঁড়ি দিয়ে আসবাবপত্র কীভাবে নামাতে হবে
- সরু জায়গায় কীভাবে মালামাল ঘোরাতে হবে
সঠিক সংখ্যক কর্মী থাকলে কাজ দ্রুত হয় এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমে।
বাসা বদলের উপযোগী গাড়ি
প্যাকিং ভালো হলেও যদি সঠিক গাড়ি ব্যবহার না করা হয়, তাহলে মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
মালামালের পরিমাণ অনুযায়ী ছোট পিকআপ, বড় পিকআপ, ট্রাক বা ঢাকা গাড়ির প্রয়োজন হতে পারে।
গাড়িতে মালামাল এমনভাবে সাজাতে হয় যাতে চলন্ত অবস্থায় একটির সঙ্গে আরেকটির ধাক্কা না লাগে।
বিশেষ করে বর্ষাকালে ঢাকা গাড়ি ব্যবহার করলে বৃষ্টি ও ধুলা থেকে মালামালকে অতিরিক্ত সুরক্ষা দেওয়া যায়।
নিরাপদে মালামাল পৌঁছে দেওয়া
বাসা শিফটিংয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো মালামাল সঠিক অবস্থায় নতুন বাসায় পৌঁছানো।
এ জন্য দরকার—
-
ভালো প্যাকিং
-
সঠিকভাবে গাড়িতে তোলা
-
সঠিকভাবে সাজানো
-
অভিজ্ঞ চালক
-
প্রশিক্ষিত শ্রমিক
-
নতুন বাসায় সাবধানে নামানো
প্রতিটি ধাপ সঠিকভাবে সম্পন্ন হলে মালামালের ক্ষতির ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।
পরিচালন ব্যবস্থাপক ও অফিস তদারকি
একটি বড় বাসা বদলের কাজে শুধু শ্রমিক থাকলেই যথেষ্ট নয়।
কাজের সময়, গাড়ি, শ্রমিক, কারিগর, প্যাকিং এবং গ্রাহকের নির্দেশনা সমন্বয় করতে একজন দায়িত্বশীল পরিচালন ব্যবস্থাপকের প্রয়োজন হতে পারে।
পরিচালন ব্যবস্থাপক নিশ্চিত করেন—
-
দল সময়মতো পৌঁছেছে কি না
-
প্রয়োজনীয় উপকরণ এসেছে কি না
-
সঠিক গাড়ি এসেছে কি না
-
শ্রমিকের সংখ্যা যথেষ্ট কি না
-
কোনো সমস্যা তৈরি হয়েছে কি না
-
কাজ পরিকল্পনা অনুযায়ী চলছে কি না
অফিস থেকে নিয়মিত তদারকি থাকলে গ্রাহককে প্রতিটি কর্মীর সঙ্গে আলাদাভাবে যোগাযোগ করতে হয় না।
গ্রাহকের সাধারণ সমস্যা ও সমাধান
আগে কম দাম বলে পরে বাড়তি টাকা চাওয়া
এটি বাসা শিফটিংয়ের একটি সাধারণ সমস্যা।
সমাধান হলো কাজ শুরুর আগে মালামালের পরিমাণ, তলা, লিফট, দূরত্ব, প্যাকিং, গাড়ি, শ্রমিক এবং কারিগরের প্রয়োজন পরিষ্কারভাবে জানানো।
সম্ভব হলে লিখিত বা পরিষ্কার মূল্য প্রস্তাব নেওয়া উচিত।
আসবাবপত্রে আঁচড় পড়া
সঠিক মোড়ক এবং সতর্ক বহনের মাধ্যমে এই ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
কাচের জিনিস ভেঙে যাওয়া
ভঙ্গুর জিনিস আলাদাভাবে মোড়ানো, বাক্সের ভেতরে নরম সুরক্ষা দেওয়া এবং বাক্সে চিহ্ন ব্যবহার করা প্রয়োজন।
গাড়ি বাসার সামনে ঢুকতে না পারা
কাজের আগে রাস্তা, গেট এবং গাড়ি রাখার জায়গা সম্পর্কে তথ্য দেওয়া উচিত।
নতুন বাসায় আসবাবপত্র লাগানোর লোক না পাওয়া
বুকিংয়ের সময়ই জানিয়ে দিন কোন কোন আসবাবপত্র খুলতে এবং পুনরায় লাগাতে হবে।
বাংলাদেশে বাসা শিফটিং সার্ভিসের আনুমানিক মূল্য
বাসা শিফটিংয়ের খরচ নির্ভর করে মালামালের পরিমাণ, দূরত্ব, তলা, লিফট, প্যাকিং, শ্রমিকের সংখ্যা এবং গাড়ির ধরনসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর।
নিচের মূল্যগুলো শুধুমাত্র আনুমানিক ধারণা দেওয়ার জন্য—
| সেবার ধরন | আনুমানিক মূল্য |
|---|---|
| ছোট কক্ষ স্থানান্তর | ৩,০০০ – ৬,০০০ টাকা |
| ব্যাচেলর বাসা স্থানান্তর | ৪,০০০ – ৮,০০০ টাকা |
| এক শোবার ঘরের বাসা | ৬,০০০ – ১২,০০০ টাকা |
| দুই শোবার ঘরের বাসা | ১০,০০০ – ১৮,০০০ টাকা |
| তিন শোবার ঘরের বাসা | ১৫,০০০ – ৩০,০০০ টাকা |
| বড় পারিবারিক বাসা | ২৫,০০০ – ৫০,০০০ টাকা বা বেশি |
| অফিস স্থানান্তর | ১৫,০০০ – ৮০,০০০ টাকা বা বেশি |
| আসবাবপত্র খোলা ও লাগানো | ১,৫০০ – ৮,০০০ টাকা বা বেশি |
| প্যাকিং উপকরণ | মালামালের পরিমাণ অনুযায়ী |
| ট্রাক বা ঢাকা গাড়ি | দূরত্ব ও গাড়ির আকার অনুযায়ী |
এই মূল্য নির্দিষ্ট নয়। কাজের ধরন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চূড়ান্ত খরচ পরিবর্তিত হতে পারে।
কেন প্যাক এন্ড শিফট?
বাসা বদলের ক্ষেত্রে অনেকেই আলাদা করে গাড়ি, শ্রমিক, প্যাকিংয়ের লোক ও কারিগর খুঁজে সময় নষ্ট করেন।
প্যাক এন্ড শিফটের মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী এসব সেবা একই ব্যবস্থাপনার মধ্যে পাওয়া যায়।
আমাদের কাজের লক্ষ্য হলো—
-
আগে থেকে পরিকল্পনা
-
সঠিক প্যাকিং
-
আসবাবপত্র সুরক্ষা
-
দক্ষ কর্মী
-
প্রয়োজন অনুযায়ী কারিগর
-
উপযুক্ত গাড়ি
-
নিরাপদ পরিবহন
-
কাজের তদারকি
-
নতুন বাসায় প্রয়োজনীয় সহায়তা
এর ফলে গ্রাহকের সময় ও মানসিক চাপ দুটোই কমে।
অনলাইনে অর্ডার ও বিনামূল্যে প্রাথমিক মূল্যায়ন
বাসা বদলের তারিখ ঠিক হওয়ার পর যোগাযোগ করে আপনার প্রয়োজন জানাতে পারেন।
প্রাথমিকভাবে যেসব তথ্য প্রয়োজন হতে পারে—
-
বর্তমান ঠিকানা
-
নতুন ঠিকানা
-
বাসার তলা
-
লিফট আছে কি না
-
মোট মালামালের আনুমানিক পরিমাণ
-
বড় আসবাবপত্রের সংখ্যা
-
ভঙ্গুর জিনিস আছে কি না
-
আসবাবপত্র খুলতে হবে কি না
-
বাসা বদলের তারিখ
প্রয়োজন অনুযায়ী মালামাল দেখে মূল্যায়ন করার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
ধাপে ধাপে বুকিং প্রক্রিয়া
ধাপ ১: যোগাযোগ করুন
ফোন, ওয়েবসাইট বা অনলাইন মাধ্যমে বাসা বদলের প্রয়োজন জানান।
ধাপ ২: প্রয়োজনীয় তথ্য দিন
বর্তমান ও নতুন ঠিকানা, তলা, লিফট, মালামালের পরিমাণ এবং তারিখ জানান।
ধাপ ৩: প্রাথমিক মূল্যায়ন
প্রয়োজনে প্রতিনিধি মালামাল দেখে কাজের পরিমাণ বুঝবেন।
ধাপ ৪: মূল্য প্রস্তাব
প্যাকিং, শ্রমিক, গাড়ি, কারিগর এবং অন্যান্য প্রয়োজন অনুযায়ী খরচ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হবে।
ধাপ ৫: তারিখ নিশ্চিত করুন
আপনার সুবিধামতো বাসা বদলের দিন ঠিক করুন।
ধাপ ৬: প্যাকিং ও আসবাবপত্র খোলা
নির্ধারিত দিনে প্রয়োজন অনুযায়ী মালামাল প্যাক এবং বড় আসবাবপত্র খোলা হবে।
ধাপ ৭: গাড়িতে মালামাল তোলা
অভিজ্ঞ কর্মীরা নিরাপদভাবে মালামাল গাড়িতে তুলবেন।
ধাপ ৮: নতুন বাসায় পৌঁছানো
মালামাল নতুন ঠিকানায় নিয়ে গিয়ে সাবধানে নামানো হবে।
ধাপ ৯: পুনরায় সংযোজন
প্রয়োজন অনুযায়ী খাট, আলমারি বা অন্যান্য আসবাবপত্র আবার লাগানো হবে।
ধাপ ১০: চূড়ান্ত যাচাই
কাজ শেষে গুরুত্বপূর্ণ মালামাল ও বাক্সগুলো একবার দেখে নিন।
বাসা বদলের আগে প্রয়োজনীয় কিছু পরামর্শ
অপ্রয়োজনীয় জিনিস আগে থেকেই আলাদা করুন। এতে মালামালের পরিমাণ কমে এবং খরচও কমতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, টাকা, গয়না, ওষুধ, মোবাইল, ল্যাপটপ এবং ব্যক্তিগত মূল্যবান জিনিস নিজের কাছে রাখুন।
ফ্রিজ স্থানান্তরের আগে প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার সরিয়ে রাখুন।
নতুন বাসার লিফট কখন ব্যবহার করা যাবে তা আগে জেনে নিন।
গাড়ি রাখার জায়গা আছে কি না নিশ্চিত করুন।
প্রতিটি বাক্সে কোন ঘরের জিনিস আছে তা লিখে রাখুন।
যে জিনিসগুলো নতুন বাসায় আগে প্রয়োজন হবে সেগুলো আলাদা করে রাখুন।
প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
বাসা শিফটিং সার্ভিসের খরচ কত?
বাসার আকার, মালামাল, দূরত্ব, তলা, লিফট, প্যাকিং, গাড়ি এবং শ্রমিকের সংখ্যার ওপর খরচ নির্ভর করে।
প্যাকিংয়ের উপকরণ কি আপনারা নিয়ে আসেন?
প্রয়োজন অনুযায়ী প্যাকিংয়ের উপকরণের ব্যবস্থা করা যায়। বুকিংয়ের সময় বিস্তারিত জানানো ভালো।
আসবাবপত্র খুলে আবার লাগানো যাবে?
হ্যাঁ। প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ কারিগরের মাধ্যমে আসবাবপত্র খোলা ও পুনরায় সংযোজনের ব্যবস্থা করা যায়।
কাচের জিনিস কীভাবে নেওয়া হয়?
ভঙ্গুর জিনিস আলাদা করে সুরক্ষামূলক উপকরণ দিয়ে মোড়ানো এবং চিহ্নিত বাক্সে রাখা হয়।
কতদিন আগে বুকিং করা ভালো?
সম্ভব হলে বাসা বদলের কয়েকদিন আগে বুকিং করা ভালো। বড় বাসা বা বেশি মালামাল হলে আরও আগে পরিকল্পনা করা সুবিধাজনক।
শুধু আসবাবপত্র স্থানান্তর করা যাবে?
প্রয়োজন অনুযায়ী শুধু নির্দিষ্ট আসবাবপত্র বা নির্বাচিত মালামাল স্থানান্তরের ব্যবস্থাও করা যেতে পারে।
ঢাকার বাইরে বাসা বদল করা যাবে?
গন্তব্য, দূরত্ব, গাড়ি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে ঢাকার বাইরেও স্থানান্তরের পরিকল্পনা করা যেতে পারে।
অনলাইনে বুকিং করা যাবে?
হ্যাঁ। ওয়েবসাইট বা যোগাযোগের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে প্রাথমিকভাবে বুকিং প্রক্রিয়া শুরু করা যায়।
প্যাক এন্ড শিফটের সঙ্গে যোগাযোগ
নিরাপদ ও পরিকল্পিত বাসা বদল, আসবাবপত্র স্থানান্তর, প্যাকিং, অফিস স্থানান্তর অথবা অন্যান্য স্থানান্তর সেবার জন্য প্যাক এন্ড শিফটের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।
কোম্পানির নাম: প্যাক এন্ড শিফট
সার্ভিস হাউস: মাস্টারবাড়ি, বেগুনবাড়ি, তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫
ঢাকা অফিস: জনতা কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি, রোড ৩, বাড়ি ৬৪, আদাবর, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭
হটলাইন: ০১৭৯৮ ১১১ ২২২
মোবাইল ও হোয়াটসঅ্যাপ: ০১৯৭৮ ২০০ ৮০০
ওয়েবসাইট: প্যাকএন্ডশিফট ডটকম
ই-মেইল: ইনফো অ্যাট প্যাকএন্ডশিফট ডটকম
শেষ কথা
বাসা বদল একটি বড় দায়িত্বের কাজ। সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া কাজ করলে সময় নষ্ট, অতিরিক্ত খরচ, আসবাবপত্রের ক্ষতি এবং মানসিক চাপ—সবকিছুই বাড়তে পারে।
একটি পেশাদার বাসা শিফটিং সার্ভিস পুরো কাজকে পরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করতে সাহায্য করে।
প্যাক এন্ড শিফটের মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী বাসা পর্যবেক্ষণ, প্যাকিং, আসবাবপত্র মোড়ানো, ভঙ্গুর জিনিসের প্যাকিং, বড় মালামাল বহন, আসবাবপত্র খোলা ও লাগানো, দক্ষ শ্রমিক, কারিগর, গাড়ি এবং কাজের তদারকি—সবকিছু একই ব্যবস্থাপনার মধ্যে নেওয়া সম্ভব।
আপনি যদি বাসা বদলের পরিকল্পনা করে থাকেন, তাহলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে আগে থেকেই যোগাযোগ করুন।
মালামালের পরিমাণ, বর্তমান ঠিকানা, নতুন ঠিকানা এবং প্রয়োজনীয় সেবা সম্পর্কে তথ্য দিন। এতে সঠিক পরিকল্পনা করা সহজ হবে এবং বাসা বদলের দিন অপ্রত্যাশিত ঝামেলা অনেকটাই কমে যাবে।